আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পশ্চিম আকচা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আরেকটা দল ভোটের জন্য এসেছে, তাদের মার্কা দাঁড়িপাল্লা। ১৯৭১ সালে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। অনেক মানুষকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুট করেছে। তারা এখনো ক্ষমা চাননি।”
তিনি আরও বলেন, “বিকাশ নম্বর কাউকে দেবেন না এসব ভাঁওতাবাজি ও ধান্দাবাজিতে। ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে—এসব কথা সঠিক নয়। আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন।” গত ১৫-১৬ বছরে দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে, টাকা লুট করে পালিয়ে গেছে। এসব ঠিক করতে হবে। ঝগড়াঝাটি না করে সঠিক মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের উন্নতি ও শান্তিতে থাকার জন্য। বিগত সময়ে শান্তিতে থাকতে পারিনি। ১৫ বছর খারাপ সময় পার করেছি। এখন সুসময় এসেছে। দেশে ভালো নির্বাচন হবে, সবাই ভোট দিতে পারবে—এমন আশা জেগেছে।” তিনি নিজের প্রার্থিতা নিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। আমার বাবা এলাকায় ভালো কাজ করেছেন। ওনার ছেলে হিসেবে আমিও এসেছি। মন্ত্রী থাকাকালীনও কেউ বলতে পারবে না আমি এক কাপ চা খেয়েছি। দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়ে ভোট চাইছি। মার্কা ধানের শীষ। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ দেবেন।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মাফ করা হবে। এনজিওর ঋণের দায় সরকার নেবে। মায়েদের ঋণ মওকুফ করা হবে। মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে থাকবেন।”
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।