সকল মেনু

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ২০ মাসের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিউন-হিকে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ইউনিফিকেশন চার্চ নামে বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন থেকে ঘুষ হিসেবে দামি উপহার গ্রহণের অভিযোগে ‘রাজনৈতিক অর্থ আইন’ লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলায় কিম কিউন-হির বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো এবং স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশে বিনামূল্যে জনমত জরিপ নেওয়ার অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। প্রমাণের অভাব এবং সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় এসব অভিযোগ টিকেনি। তবে ইউনিফিকেশন চার্চ থেকে ঘুষ হিসেবে দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একটি শ্যানেল ব্যাগ এবং একটি গ্রাফ ডায়মন্ড নেকলেস গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় একটি শ্যানেল ব্যাগ নেওয়ার অভিযোগ থেকেও তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

আদালতের বিচারক উ ইন-সুং বলেন, কিম কিউন-হি নিজের অবস্থানের সুযোগ নিয়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং বিশেষ সুবিধার সঙ্গে যুক্ত দামি উপহার গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি সরাসরি উপহার চাননি বা চার্চের কোনো দাবি স্বামীর কাছে পৌঁছে দেননি বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ার কারসাজি, ঘুষ ও জরিপের মোট মূল্য ছিল প্রায় ১১৫ কোটি কোরিয়ান উন (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ কোটি টাকার সমান)। গত আগস্টে বিশেষ কৌঁসুলির দপ্তর তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিল। বিশেষ কৌঁসুলি মিন জুং-কি বলেন, প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সহজেই অর্থ ও দামি সামগ্রী গ্রহণ করেছেন।

কিম কিউন-হির বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১০-১২ সালে একটি গাড়ি ডিলারশিপের শেয়ার কারসাজির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। ২০২১ সালে জীবনবৃত্তান্তে তথ্য বাড়িয়ে লেখার অভিযোগে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল করে। ২০২৩ সালে ২ হাজার ২০০ ডলারের একটি ডিওর ব্যাগ গ্রহণের গোপন ভিডিও প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্নীতিবিরোধী আইনে সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী-স্বামীর জন্য ৭৫০ ডলারের বেশি মূল্যের উপহার গ্রহণ নিষিদ্ধ।

এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির ঘটনায় বিদ্রোহসহ নানা অভিযোগে তার বিচার চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট দম্পতি একসঙ্গে কারাগারে গেলেন।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

×