২০০৮ সালে মাত্র ষোলো বছর বয়সে ইন্দোনেশিয়ান-আমেরিকান মডেল মানোহারা ওডেলিয়া পিনোকে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের সুলতানের ছেলে টেংকু মুহাম্মদ ফাখরি পেত্রার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।
প্রায় পনেরো বছর পর ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ খোলা চিঠি পোস্ট করে মানোহারা তার অতীতের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আবার কথা বলেন। বর্তমানে তেত্রিশ বছর বয়সী এই মডেল স্পষ্টভাবে জানান যে কিশোরী বয়সে তাকে জোর করে বিয়ে করানো হয়েছিল এবং সেই সম্পর্কে তার কোনো সম্মতি ছিল না। তিনি বলেন যে এটি কোনো রোমান্টিক বা স্বেচ্ছায় গড়ে ওঠা সম্পর্ক ছিল না এবং কোনো বৈধ বিয়েও ছিল না। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তিনি চাপের মুখে ছিলেন এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ বা ক্ষমতা তার ছিল না।
বিয়ের পর কেলান্তানের রাজপ্রাসাদে তার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় বলে অভিযোগ। স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ খুব সীমিত করা হয় এবং ক্রমাগত নজরদারিতে রাখা হয়। তিনি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনেরও অভিযোগ তোলেন।
বিয়ের মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে রাজপরিবারের সফরের সময় তিনি নাটকীয়ভাবে পালিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যান। তার মা স্থানীয় পুলিশ এবং মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় এই পালানো সম্ভব হয়। এই খোলা চিঠিতে মানোহারা ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম সম্পাদক লেখক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে আবেদন জানান যেন তাকে আর পেত্রার সাবেক স্ত্রী বা মানতান ইস্ত্রি হিসেবে উল্লেখ না করা হয়। তিনি বলেন এই তকমা তার অভিজ্ঞতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে কারণ এতে জোরপূর্বক বিয়ে শিশুবিয়ে এবং নির্যাতনের বিষয়টি ঢেকে যায় এবং একে যেন স্বাভাবিক বৈধ সম্পর্ক বলে মনে হয়।
তিনি চান সাংবাদিকতায় সত্যতা এবং নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটুক। এই ঘটনা শিশুবিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে এবং নির্যাতনের মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।