যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় ‘বড় পরিসরের’ সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় পরিসরের অভিযান চালিয়েছে। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অপারেশন মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি পরে বিস্তারিত জানাতে একটি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভোররাতে অন্তত সাতটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা যুদ্ধবিমানের আওয়াজ এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখেছেন। ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে শহরের কেন্দ্রস্থলীয় লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি থেকে—যেখানে মাদুরো দীর্ঘদিন থাকতেন বলে ধারণা করা হয়। শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেছেন, মার্কিন আগ্রাসনের মুখে সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে মাদুরোর গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ আসেনি।
প্রতিবেশী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “এ মুহূর্তে কারাকাসে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে… বিশ্বকে সতর্ক করছি, ভেনেজুয়েলায় হামলা হয়েছে।” তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এই অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের মাসব্যাপী চাপের চূড়ান্ত পরিণতি। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে মাদক পাচার ও ‘নার্কো-টেররিজম’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা, তেল ট্যাঙ্কার জব্দ এবং অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনী অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার জেট মোতায়েন বাড়িয়েছে।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কারাকাসজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, যদিও রয়টার্সসহ কয়েকটি সংস্থা এগুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।