জনপ্রতিনিধি হয়ে অন্যায়-অনাচার রুখবেন—এমনই স্বপ্ন ছিল শরীফ ওসমান হাদির। কিন্তু একটি বুলেট থামিয়ে দিল সব পথচলা। দেশি-বিদেশি হাসপাতালে টানা সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে নিথর দেহে লাল-সবুজের কফিনে চড়ে দেশে ফিরছেন ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র। তার এই প্রস্থান যেন এক অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির গল্প, যা রেখে গেল সাহস আর প্রতিবাদের অদম্য অনুপ্রেরণা।
মরদেহ দেশে আসার আগেই শুক্রবার দুপুরে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পুরোনো কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করা হয়। যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই করা তার এই মন্তব্যটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগ তৈরি করেছে।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেছে। বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি অবতরণ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
আগামীকাল শনিবার জানাজা শেষে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সরকার আগামীকাল রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।