ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ১৬৪ ধারায় তাদের এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা আদালতকে জানান যে, ঘটনার পর মূল আসামি ফয়সালকে আত্মগোপনে থাকতে এবং তার ব্যবহৃত অস্ত্র ও ব্যাগ লুকাতে তারা সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা থেকে র্যাব-১০ তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল আগারগাঁওয়ে তার বোনের বাসায় একটি ব্যাগ নিয়ে যান এবং পরে সেটি কৌশলে সরিয়ে ফেলেন। সেখানে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর ফয়সাল তার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। এ সময় তার বাবা হুমায়ুন কবির তাকে সিএনজি ভাড়া করে দেওয়া ও টাকা দিয়ে পালানোয় সহায়তা করেন। পরবর্তীতে তারা নতুন সিম কিনে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং কেরানীগঞ্জে অন্য এক ছেলের বাসায় অবস্থান নেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় রিকশাযোগে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং বাইক চালক আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করেছে। এই মামলায় ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা, শ্যালক এবং তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী উজ্জলসহ আরও কয়েকজন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।