আজ সেই ভয়াল ও মর্মান্তিক ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালের যে সন্ধ্যায় নেত্রকোণা জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে নৃশংস গ্রেনেড বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। প্রগতিশীল সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে চালানো এই কাপুরুষোচিত হামলায় সাংস্কৃতিক কর্মী, শিশুশিল্পী, শিক্ষক ও সাধারণ দর্শকসহ মোট ৮ জন মানুষ নির্মমভাবে নিহত হন। এতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
সেদিনের সেই হামলায় যারা নিহত হয়েছিলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদের একুশ শতকের সাংস্কৃতিক শহীদ হিসেবে স্মরণ করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় উদীচী কর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খাজা হায়দার হোসেন, গৃহিণী মঞ্জুয়ারা বেগম শেলী, শিশু শিল্পী সুতপা সাহা যাদব (১০ বছর) এবং রুপন কুমার (৭ বছর)। এছাড়াও শহীদ হয়েছিলেন ব্যবসায়ী বুলবুল আহমেদ, কৃষক অঞ্জলী রায় ও হেমন্তক বিশ্বাস, এবং শিক্ষিকা ছায়া রানী সরকার। শিশুশিল্পী যাদব ও রুপন কুমারের মৃত্যু এবং উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক হায়দার হোসেনের প্রয়াণ সেদিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সাংবাদিক গোপাল সেন-সহ গুরুতর আহত অনেকেই আজও সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি বহন করছেন।
১৯৯৯ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উদীচী কার্যালয়ে একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন উগ্র ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। সাংস্কৃতিক চর্চা, গণসংগীত ও প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার চর্চাকে স্তব্ধ করে দেওয়াই ছিল এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য। এই হামলার মধ্য দিয়ে উগ্রবাদীরা দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর এক চরম আঘাত হেনেছিল, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল।
নেত্রকোণা ট্র্যাজেডি দিবসটি প্রতি বছর দেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিশেষ করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ ও জেলা সংসদের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে আজ (৮ ডিসেম্বর, ২০২৪) সন্ধ্যায় উদীচী চত্বরে (১৪/২ তোপখানা রোড, ঢাকা) নেত্রকোণায় নিহত স্বজনদের স্মরণে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান থেকে নিহতদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে একটাই দাবি জানানো হয়েছে— দ্রুত এই মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আজও স্বজন ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মনে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, জাতি হিসেবে যেন এই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে না দেওয়া হয়।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/saradesh/2025/12/08/newsid-711/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ণ