NABO NEWS24
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

‘বাংলা কিউআর’ সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ, ক্যাশলেস অর্থনীতিতে জোর দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক

লেখক: নব নিউজ ডেক্স

দেশজুড়ে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে রিটেইল, এসএমই ও করপোরেট—এই তিন বিভাগকে একসঙ্গে যুক্ত করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুন এসএমই গ্রাহকদের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা, ফার্মেসিগুলোকে কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় আনা এবং গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘আস্থা’ অ্যাপকে আরও ‘বাংলা কিউআর’–বান্ধব করে তোলার কাজ চলছে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে সম্পৃক্ত করা, ‘বাংলা কিউআর’-এর সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ‘বাংলা কিউআর’-এর সুবিধা

মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে পেমেন্ট গ্রহণ করলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এতে জাল বা ছেঁড়া নোটের ঝুঁকি থাকে না, খুচরা টাকার সংকটের কারণে অতিরিক্ত ছাড় দিতে হয় না এবং দোকানে অতিরিক্ত নগদ অর্থ রাখার প্রয়োজনও কমে যায়। ফলে অর্থ বহনের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক রেকর্ড তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগে অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসার লেনদেন নগদে হওয়ায় তাদের প্রকৃত আয় ও আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা কঠিন ছিল। ‘বাংলা কিউআর’ সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সহায়তা করবে।

ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহক সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ

ডিজিটাল পেমেন্টে সাধারণ গ্রাহকদের আরও সম্পৃক্ত করতে ব্র্যাক ব্যাংক ‘আস্থা’ অ্যাপের উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হচ্ছে। আগে থেকেই কিউআর পেমেন্ট সুবিধা থাকলেও এখন অ্যাপটিকে আরও ‘বাংলা কিউআর’–সক্ষম করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ ইতোমধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় ‘বাংলা কিউআর’ মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও সারা দেশে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

নতুন এসএমই গ্রাহকদের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ফলে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিগুলোও কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আসছে। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার ও প্রণোদনাও চালু রয়েছে।

ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য

মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলা কিউআর’-এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের আর্থিক লেনদেনকে আরও নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নগদনির্ভরতা কমিয়ে ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া। ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার জাতীয় লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

তিনি বলেন, এখনো অনেক খুচরা ব্যবসায়ী ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে অভ্যস্ত নন এবং অনেকেরই ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট নেই। তাই তাদের প্রথমে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের ফি অনেক ব্যবসায়ীর কাছে নিরুৎসাহের কারণ। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি প্রণোদনা বা ভর্তুকির পাশাপাশি ব্যাংকগুলোরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্র্যাক ব্যাংক ইতোমধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা চালু করেছে। গ্রাহকের করা পেমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য কিউআর পেমেন্টে রিওয়ার্ড পয়েন্টের ব্যবস্থা রয়েছে, যা দিয়ে বার্ষিক ফি মওকুফসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সুবিধা চালু রয়েছে। সারা দেশে ব্যাংকের শাখা, উপশাখা, এসএমই ইউনিট অফিস ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে কর্মরত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন।

গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ

মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ একটি সর্বজনীন বা ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট ব্যবস্থা। ফলে যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করেই একটি ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যান করে সহজে অর্থ পরিশোধ করা যায়।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কিউআর স্ক্যান করার পর পিন বা ওটিপি দেওয়ার আগে অবশ্যই মার্চেন্টের নাম ও লেনদেনের পরিমাণ যাচাই করতে হবে। নিজের পিন বা পাসওয়ার্ড কখনোই অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপদ রেকর্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে। এতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব রাখা সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও এসব লেনদেনের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন
YouTube Subscribe
Follow @nabonews24
Follow @nabonews24

প্রধান সম্পাদক: মোঃ রেজাউল্লাহ রেজা

প্রকাশক: মোঃ নাজমুল হুসাইন

নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ তরিকুল ইসলাম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বিটিএ টাওয়ার (১২ তলা), ২৯ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, রোড#১৭, বনানী সি/এ, ঢাকা-১২১৩।

ফোন : ০২-২২৬৬০৩৩৭, ০১৭১১-৬৫৪৭৬৬
ই-মেইল : info@nabonews24.com, nabonews24@yahoo.com (News)

(A Sister Concern of Fujisan Properties Ltd.)

QR Code

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।

https://www.nabonews24.com/corporate/2026/07/23/newsid-6178/

© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০২-০৮-২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ