২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: বড় স্বপ্ন ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমান সরকারের এই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট।
বাজেট উপস্থাপনের পরদিন আজ, শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ঐতিহ্যগত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সঞ্চালনায় অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বাজেটের মূল অঙ্ক ও লক্ষ্যমাত্রা
একটি দেশের সামগ্রিক আর্থিক রূপরেখা হলো বাজেট। প্রস্তাবিত এই বাজেটে দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে রেকর্ড ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এই আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আয় ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।
স্বপ্নের বাজেট বনাম সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই বাজেট অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ ও সবার জন্য উন্নয়ন দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বাজেটে শিক্ষা খাতে বিগত ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। মোট ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বপ্ন পূরণের পথ একেবারেই মসৃণ নয়। বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চরম চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অভাবের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া এবং ঋণের সুদ ও ভর্তুকির বিশাল চাপ রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার বাজার। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রেটিং কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি আইএমএফ ঋণ চালু রাখার শর্ত হিসেবে সবকিছু কড়া নজরদারিতে রেখেছে। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের একটি বৈশ্বিক প্রভাব তো রয়েছেই।
অর্থনৈতিক এই সংকটের কারণে সরকারের আয়ের খাতগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে আয়ের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা শুধু কঠিনই নয়, অনেকের মতে অসম্ভব। অর্থমন্ত্রী নিজেও তার বাজেট বক্তৃতায় এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। সরকারের এই বাজেটে স্বপ্নের কোনো ঘাটতি নেই। তবে স্বপ্ন যত বড়, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়নের পরীক্ষাও ততটাই কঠিন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত আছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf/2026/06/12/newsid-4776/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ণ