নেত্রকোনার মদন পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত সাধারণ গ্রাহকের ডিপিএস ও সঞ্চয়ের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে গেছে ‘পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি স্থানীয় এনজিও। এ ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতিমধ্যেই দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মদন উপজেলার এনজিও অফিসটি ঘেরাও করেন। সেখানে কাউকে না পেয়ে নিরুপায় হয়ে অসহায় গৃহিণীসহ বিপুল সংখ্যক গ্রাহক একটি বাস রিজার্ভ করে জেলা সদরে অবস্থিত এনজিওটির প্রধান কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন। কিন্তু নেত্রকোনা শহরের চকপাড়াস্থ প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সেটিও তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তারা। এতে উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ‘পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয়ের নামে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগী সঞ্চয় গ্রাহক নিতীশ চন্দ্র রায় বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে এনজিওর মাঠকর্মীরা তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে আরও ১০ হাজার ৩০০ টাকা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, মদন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠকর্মী আল জান্নাতুল (তুর্কি) ম্যানেজার মোঃ আল-আমিন খানের নির্দেশে শতাধিক নারীর কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি সঞ্চয় সংগ্রহ করে রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে যান। সম্প্রতি গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গেলে এনজিও কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার এবং তাদের আমানত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে নেত্রকোনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আল-মামুন সরকার জানান, “অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আটজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এই সংস্থার সাথে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/saradesh/2026/05/22/newsid-4286/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ণ