NABO NEWS24
প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ

ইসরাইলকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ সুরক্ষায় টান

লেখক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরাইলকে ইরানের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজেদের চেয়েও বেশি পরিমাণে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষাকবচ ব্যবহার করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশসুরক্ষা মজুদে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মিত্র দেশগুলো ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের অনুরোধ জানালেও মার্কিন প্রশাসন তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, ইসরাইল তাদের আরব অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সুরক্ষায় নিজস্ব আয়রন ডোম ব্যাটারি এবং সামরিক কর্মী পাঠিয়েছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলকে রক্ষায় মার্কিন বাহিনী দুই শতাধিক টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করেছে, যা পেন্টাগনের মোট মজুদের প্রায় অর্ধেক। এর বাইরেও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে আরও শতাধিক স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়েছে। এর বিপরীতে, ইসরাইল নিজে ব্যবহার করেছে ১০০টিরও কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিডস স্লিং ইন্টারসেপ্টর। ডেভিডস স্লিং মূলত ইয়েমেনের হুথি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে, যাদের কাছে ইরানের মতো উন্নত প্রযুক্তি বা ড্রোন নেই।

ওয়াশিংটন পোস্ট এই পরিস্থিতিকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অসম বা একতরফা গতিশীলতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টিকে স্তব্ধ করার মতো বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিসংখ্যান দেখার পর অনেকেই যদি এই সংঘাতকে ইসরাইল প্রথম নীতি হিসেবে বিবেচনা করেন, তবে তা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, ইসরাইল নিজে যতটুকু প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইসরাইলকে বাঁচাতেই তার চেয়ে অনেক বেশি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ করেছে।

বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত অবসানের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে ইরান যদি যুদ্ধ থামানোর শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে পুনরায় হামলা চালানো হবে। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ২০০টি থাড ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট থাকায় ওয়াশিংটন নিজেই এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে থেকেই যে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসছিল, তা এখন স্পষ্ট।

চলমান এই লড়াইটি মূলত একটি প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চেষ্টা করছিল ইরানের ভেতরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ যানগুলো ধ্বংস করতে, আর ইরান চেষ্টা করছিল প্রতিপক্ষের ইন্টারসেপ্টরের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত টিকে থাকতে। নিউইয়র্ক টাইমসের গত সপ্তাহের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে পরিমাণ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশই এখনো অক্ষত রয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ যদি আবারও শুরু হয় তবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ধরনের ধকল পোহাতে হতে পারে। কারণ, সম্প্রতি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে লড়াই শুরু হলে এই সামরিক ভারসাম্যহীনতা ও সুরক্ষার ঘাটতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

প্রধান সম্পাদক: মোঃ রেজাউল্লাহ রেজা

প্রকাশক: মোঃ নাজমুল হুসাইন

নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ তরিকুল ইসলাম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বিটিএ টাওয়ার (১২ তলা), ২৯ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, রোড#১৭, বনানী সি/এ, ঢাকা-১২১৩।

ফোন : ০২-২২৬৬০৩৩৭, ০১৭১১-৬৫৪৭৬৬
ই-মেইল : info@nabonews24.com, nabonews24@yahoo.com (News)

(A Sister Concern of Fujisan Properties Ltd.)

QR Code

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।

https://www.nabonews24.com/uncategorized/2026/05/22/newsid-4275/

© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ণ