বিয়ের পর ক্যরিয়ার ছেড়ে ঘরে বন্দি জীবন, তীব্র মানসিক যন্ত্রণা আর শ্বশুরবাড়িতে ‘ফেঁসে যাওয়ার’ অকাট্য প্রমাণ মিলল ভোপালে রহস্যজনকভাবে মৃত ৩৩ বছর বয়সী তরুণী টুইশা শর্মার শেষ চ্যাটিংয়ে। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে বান্ধবীদের সঙ্গে হওয়া হোয়াটসঅ্য্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম চ্যাট প্রকাশ্যে আসতেই এই মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
গত ১২ মে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাটারা হিলস এলাকা থেকে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা টুইশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। টুইশা একজন এমবিএ গ্র্যাজুয়েট ছিলেন এবং বিয়ের আগে দিল্লির একটি করপোরেট সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন।
প্রকাশ্যে আসা চ্যাটিংয়ে দেখা যায়, মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে (৭ মে) এক বান্ধবীকে হোয়াটসঅ্য্যাপে টুইশা লিখেছিলেন:
“আমি প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি কারণ আমি সারাদিন ঘরে বসে থাকি। আমি জীবনে নিজের মতো কিছু করতে চাই। বিয়ে হয়তো একটা পরিবার দেয়, কিন্তু তুমি যেখানেই থাকো না কেন, নিজের জন্য কাজ করা বন্ধ করতে পারো না।”
একই চ্যাটে বান্ধবীকে তড়িঘড়ি বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়ে হিন্দি ভাষায় সতর্ক করে টুইশা বলেন, “বিয়ের ভূত মাথায় চাপিয়ে হুট করে বিয়ে করিস না। খুব ভেবেচিন্তে পা বাড়াস। আপাতত শুধু এটুকুই বলব।” বান্ধবী চিন্তিত হয়ে খোঁজ নিলে টুইশা জানান, তার শুধু বাড়ির কথা ও বান্ধবীদের কথা খুব মনে পড়ছে।
তবে ইনস্টাগ্রামের আরেকটি চ্যাটে টুইশার বার্তা ছিল আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত ও ভয়াবহ। সেখানে চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি লিখেছিলেন:
“আমি পুরোপুরি ফেঁসে গেছি ভাই। তুই শুধু ফাঁসিস না। এখন বেশি কথা বলতে পারব না, সময় সুযোগ বুঝে তোকে নিজেই ফোন করব।”
তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনজীবী সমর্থ সিংহের সঙ্গে পরিচয় হয় টুইশার। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার এই রহস্যজনক পরিণতি ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলায় ক্ষোভে ফুঁসছে নিহতের পরিবার।
টুইশার মৃত্যুর পর গত পাঁচ দিন ধরে তার মরদেহ ভোপাল এইমস-এর মর্গে পড়ে রয়েছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে তার পরিবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের সামনে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
নিহতের বাবা নবনিধি শর্মা এবং তুতো ভাই আশীষ শর্মা গণমাধ্যমকে জানান, ভোপালে পৌঁছানোর পর থেকেই তারা চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং প্রভাবশালী আসামিদের বাঁচাতে স্থানীয় পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করতে গড়িমসি করছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের সংক্ষিপ্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ ‘ঝুলন্ত অবস্থা’ বলা হলেও, টুইশার শরীরে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের স্পষ্ট দাবি—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এই ঘটনায় ভোপালের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহ এবং তার ছেলে (টুইশার স্বামী) সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনেছে নিহতের পরিবার।
অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যে মামলাটির জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশের ওপর আস্থা না পেয়ে, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে পুনরায় ময়নাতদন্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/international/2026/05/18/newsid-4168/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ণ