NABO NEWS24
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

মাছ খেলে আপনাদের বাংলাদেশি বলা হবে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক: নব নিউজ ডেক্স

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় ‘মাছ রাজনীতি’ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে তুমুল বাকযুদ্ধ চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের মাছ খেতে দেবে না, মাংস-ডিমও খেতে দেবে না। খেলে আপনাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ করে খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। মমতা দাবি করেন, আগে হায়দ্রাবাদ থেকে মাছ আমদানি করতে হলেও এখন রাজ্যে মাছ চাষ অনেক বেড়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুকে ‘বাংলা অস্মিতা’ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলিশ ভাপা, চিংড়ির মালাইকারি, পাবদার ঝাল ও কষা মাংসের আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করে প্রচার চালানো হচ্ছে। অনেক পোস্টে লেখা হচ্ছে— “পশ্চিমবঙ্গে পর্যটকদের স্বাগত। এখানে এলে এসব খাবার মিস করবেন না।” পাল্টা জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলায় মাছের চাহিদা অনেক হলেও উৎপাদনে রাজ্য এখনও স্বনির্ভর নয়। গত ১১ বছরে দেশে মাছ উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও পশ্চিমবঙ্গ সেই অগ্রগতি করতে পারেনি। চাহিদা মেটাতে অন্য রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন করে রাজ্যকে স্বনির্ভর করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে টানা ১৫ দিন প্রচার চালানোয় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারসহ নেতারা মমতার বক্তব্যকে ‘ভোটের জন্য মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, বিজেপি কখনো খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে না। বরং মাছ উৎপাদন বাড়িয়ে মৎস্যজীবীদের আর্থিক উন্নয়ন করবে।

নির্বাচনী মাঠে মাছ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বড় কাতলা মাছ হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করেছেন। খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ প্রচারের মাঝে মাছের বাজারে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে, নববর্ষের সকালে টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের সমর্থকরা দুটি বড় ট্রেতে রুই মাছ নিয়ে শোভাযাত্রা করেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে মাছ শুধু খাবার নয়— এটি বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। দুই দলই এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ‘মাছ রাজনীতি’ ততই তীব্র হয়ে উঠছে।নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোট হবে ২৩ এপ্রিল (প্রথম দফা— ১৫২ আসন) ও ২৯ এপ্রিল (দ্বিতীয় দফা— ১৪২ আসন)। ভোট গণনা হবে ৪ মে।

প্রধান সম্পাদক: মোঃ রেজাউল্লাহ রেজা

প্রকাশক: মোঃ নাজমুল হুসাইন

নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ তরিকুল ইসলাম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বিটিএ টাওয়ার (১২ তলা), ২৯ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, রোড#১৭, বনানী সি/এ, ঢাকা-১২১৩।

ফোন : ০২-২২৬৬০৩৩৭, ০১৭১১-৬৫৪৭৬৬
ই-মেইল : info@nabonews24.com, nabonews24@yahoo.com (News)

(A Sister Concern of Fujisan Properties Ltd.)

QR Code

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।

https://www.nabonews24.com/international/2026/04/16/newsid-3815/

© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ণ