মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সরাসরি কূটনৈতিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনাকে আঞ্চলিক সংঘাতের একটি গুরুতর ও উদ্বেগজনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচটি ড্রোন এবং কয়েকটি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি ড্রোন দূতাবাস চত্বরের ভেতরে আঘাত হেনেছে, যা হামলার নির্ভুলতা ও তীব্রতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পরে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
ইরাকের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ড্রোন ও রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, অন্তত দুটি ড্রোন মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও একটি রকেট প্রতিরোধ করা হয়। এই হামলাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দ্বারা চালানো সবচেয়ে তীব্র ও সমন্বিত আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা মার্কিন-ইসরায়েলি-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
একই দিনে বাগদাদের জাদরিয়া এলাকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শিয়া মিলিশিয়া জোট ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ভবন বা বাড়িতে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ইরাকি সূত্র অনুসারে, এতে অন্তত দুজন থেকে চারজন নিহত হয়েছেন। হামলার পেছনে কারা জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে এটি মার্কিন বা সম্পর্কিত বাহিনীর অভিযান হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব হামলা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত ও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরাকের মতো দেশে, যেখানে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব রয়েছে, এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণ কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই চক্র কখন থামবে? একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত উত্তেজনা হ্রাসের উদ্যোগ না নিলে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/international/2026/03/17/newsid-3239/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ণ