যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান তীব্র শীতকালীন ঝড়ে জনজীবন পুরোপুরি থমকে গেছে। তুষারপাত, বরফ ও হিমবৃষ্টির এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্যোগের কারণে দেশটির প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। শুধুমাত্র রোববার একদিনেই বাতিল করা হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট। খবর- বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল অঞ্চলে জীবননাশের মতো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন চলতে পারে।
ঝড়ের তাণ্ডবে লুইজিয়ানায় দুই জন এবং টেক্সাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বরফ জমে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টেনেসিতে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি, মিসিসিপিতে ১ লাখ ৬০ হাজার এবং লুইজিয়ানা ও টেক্সাসে হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন। মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিসিসিপির অক্সফোর্ড শহর, যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
নিউইয়র্ক সিটিতেও তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে। শহরের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, এটি গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে শীতল সময়। শনিবার শহরে অন্তত পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। ঝড়ের কারণে শিক্ষা ও গণপরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। নিউ ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে সব ধরনের গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবেলায় অন্তত ২৪টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডা, আলাবামা ও জর্জিয়ার কিছু অংশে টর্নেডোর আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/international/2026/01/26/newsid-2285/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ণ