সাভারে ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ভবঘুরে যুবক সম্রাট নিজ পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ভবনের নির্জন স্থানে নিয়ে আসত। অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে বা অন্য কারও সঙ্গে এমন কিছু ঘটলে তাদের হত্যা করত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সে।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান আদালতে দেওয়া সম্রাটের সব বক্তব্য যাচাই-বাছাই চলছে।
সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই চার বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় বোন শারমিন, তারপর সবুজ, আরেক বোন, এক ভাই এবং আরও দুই বোন। নানাবাড়ি বরিশালে হলেও জন্মস্থান ও বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে।
সর্বশেষ ঘটনার তিন-চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসে সে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে প্রথমে যুবককে দোতলায় নিয়ে হত্যা করে। পরে তরুণীকে নিচতলায় খুন করে লাশ দুটি পুড়িয়ে ফেলে। গতকাল সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সম্রাট। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে পাঠায়। জবানবন্দি শেষে রাতেই তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্রাট নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিত। সাভার মডেল থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড় এলাকায় বছরের পর বছর ঘুরে বেড়াত এবং রাত কাটাত। গ্রেফতারের পর যে ঠিকানা দিয়েছে তা যাচাই করে মিল পাওয়া যায়নি। সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামও মশিউর রহমান খান সম্রাট। আসামি তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় দিচ্ছে।
পুলিশের সন্দেহ রয়েছে তার দেওয়া খুনের কারণ নিয়ে। একেকবার একেক রকম দাবি করছে। কখনো বলছে অনৈতিক কাজের জন্য খুন করেছে, কখনো বলছে নারীদের লোভ দেখিয়ে নিয়ে এসে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক দেখলে হত্যা করত। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, আগে যে ঠিকানা ও বাবা-মায়ের নাম দিয়েছে তা মিলেনি। সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, সম্রাট বিকৃত মানসিকতার সাইকোপ্যাথ।
স্থানীয়রা জানান, তিন-চার বছর ধরে সে এলাকায় ঘুরে বেড়াত। টাকা চাইত, পুলিশ-গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে চা-সিগারেট নিত। অপরিচ্ছন্ন থাকত, উচ্চবাচ্য করে গালাগাল করত। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও দেখা যেত কখনো কখনো, তবে বাটন ফোন সবসময় থাকত। কেউ ধারণাই করেনি সে এমন ভয়ঙ্কর খুনি।
সাত মাসে ছয় খুনের ঘটনা গত ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার হয়। পরে পরিচয় মেলে আসমা বেগম নামে। ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ। ১১ অক্টোবর এক নারীর লাশ। ১৯ ডিসেম্বর আরেক পুরুষের লাশ। ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া লাশ। সিসিটিভি ফুটেজে লাশ সরাতে দেখা যায় সম্রাটকে। এরপর গ্রেফতার হয় সে।
পুলিশ এখন তার জবানবন্দি, পরিচয় ও হত্যার কারণ যাচাই-বাছাই করছে। গ্রামের প্রভাবশালী খালেক শেখ তাদের আত্মীয় বলে জানা গেছে। কারাগারে থাকাকালীনও সে বেপরোয়া ছিল, চুরি করত বলে কয়েকজন হাজতি জানিয়েছেন।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/rajdhani/2026/01/20/newsid-2258/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ণ