ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা মহানগরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের জন্য রাজধানীর ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্রে মোট প্রায় ২৫,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারির জন্য ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিকল্পনা অনুসারে, নিরাপত্তা ঝুঁকির ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ। এর মধ্যে ১,৮২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩০৩টিকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ কেন্দ্রে অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ সদস্য থাকবেন। একই ভেন্যুতে একাধিক কেন্দ্র থাকলে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে।
পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তায় থাকবেন আনসার সদস্যরা। কেন্দ্রপ্রতি ১০ জন আনসার সদস্য এবং একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার পদমর্যাদার অস্ত্রধারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় থাকবেন আরও একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য। নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, পুলিশ মোতায়েন ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনার, ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং র্যাবের একজন প্রতিনিধি অংশ নেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ রাজধানীতে অবস্থান করবেন। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও এখানে সবচেয়ে বেশি হবে। নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে ঢাকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে এখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ঢাকায় ১৫টি বিশেষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে ব্যালট পেপার, বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ভোটগ্রহণ শেষে ফিরিয়ে আনা হবে। নির্বাচনী সামগ্রী ও পুলিশ সদস্য পরিবহনের জন্য প্রায় ৩,০০০ যানবাহন রিকুইজিশন করা হবে। ভোটের দিন আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো প্রার্থী বা সমর্থক আচরণবিধি ভঙ্গ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।
ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে র্যাব। ডিএমপির প্রতিটি অপরাধ বিভাগে র্যাবের ছয়টি করে দল মোতায়েন থাকবে। এছাড়া পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সও মাঠে থাকবে।ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন, যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসারে আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশজুড়ে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি ও কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়, গুলশান কূটনৈতিক এলাকা ও উত্তরা এলাকায় চারটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগে আটটি সাব-কন্ট্রোল রুম থাকবে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/national/2026/01/13/newsid-2021/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ণ