রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের জন্য পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
গত বছরের ২১ জুলাইয়ের এ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব)-এ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনকে মৃত্যু ও হতাহতের জন্য দায়ী করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি নিম্নরূপ:
১. তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি এবং স্কুলের বিল্ডিং কোড অমান্য করার দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়া সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের (অব.) বিরুদ্ধে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে টাকা উদ্ধারপূর্বক ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের রিট পিটিশনে (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) উল্লিখিত রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ এবং সনদ প্রদান করা এবং তাদের স্মরণে একটি মেমোরিয়াল নির্মাণ।
৪. প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা করা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, ২০২১-২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে বিপুল দুর্নীতি না হলে বিমানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। পরিবারগুলোর মতে, এ দুর্নীতির কারণেই এত প্রাণহানি ঘটেছে এবং স্কুলের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়েছে।
উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লাসহ অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বর্ণনা করেন, দুপুর ১টা ১২ মিনিটে বিমানটি ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে বা দ্বিখণ্ডিত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্ব ইতিহাসে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত প্রাণহানির নজির নেই।
অনেক দম্পতি একমাত্র বা একাধিক সন্তান হারিয়ে নিঃসন্তান হয়ে গেছেন।
পরিবারগুলো জানান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের ১১ ডিসেম্বরের ঘোষিত ২০ লাখ (নিহতদের জন্য) ও ৫ লাখ (আহতদের জন্য) টাকার প্রস্তাব তারা ১৪ ডিসেম্বর প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত ১ কোটি টাকার সম্ভাব্য প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে তারা সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচারের দাবি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন এবং উপদেষ্টাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এবং বিদেহী আত্মাদের শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/national/2026/01/08/newsid-1891/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ণ