বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর সোয়া ৬টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় অবস্থিত জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
তার কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বার্ধক্যজনিত জটিলতায় গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়াসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২০০৬ সালে ব্রেন স্ট্রোকের পর তার ডান পা অবশ হয়ে যায় এবং এরপর থেকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভোগেন।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি শুরু করেন তিনি। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে মাত্র ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে স্টোর কিপার পদে অবসর নেন।প্রায় ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’সহ নানা অভিধায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। তার ছড়ায় ব্যঙ্গাত্মকতা, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বার্তা উঠে এসেছে।
উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘যুক্তবর্ণ’, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ প্রভৃতি।
ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/national/2026/01/02/newsid-1732/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ণ