অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।”প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার দীর্ঘ সংগ্রাম, অবদান এবং জনগণের প্রতি আবেগের কথা বিবেচনা করে সরকার চলতি মাসে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয়। তার আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার গণতন্ত্রহীনতা থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের প্রতি তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও তার গণমুখী নেতৃত্ব, দৃঢ় মনোবল এবং জাতির কল্যাণে দীর্ঘ যাত্রা সবসময় পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিককে হারিয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি স্বৈরাচারী এরশাদের নয় বছরের শাসনের পতন ঘটাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তার অনেক সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে তিনি নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে মাইলফলক স্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সফল ছিলেন এবং কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে তিনি বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন তিনি। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন এবং জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তিনি চরম প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মিথ্যা মামলায় তাকে ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ কারাবাস ভোগ করতে হয়। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে দেশবাসীকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবাইকে তার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।
৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/national/2025/12/30/newsid-1644/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ণ