নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বাড়লা গ্রামের হৃদয়বিদারক ইতিহাস এখনও জাতীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায়। ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর—শুক্রবার, ২৩ রমজান—পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের স্থানীয় দোসরদের নৃশংস হামলায় শহীদ হন চারজন নিরীহ গ্রামবাসী: মালধর, আবুল হাসেম, আব্দুল খালেক ও জুলহাস মিয়া।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে; গ্রামে নির্মিত হয়নি কোনো সরকারি স্মৃতিস্তম্ভও।
সেদিন ময়মনসিংহের নান্দাইল থানা ক্যাম্প থেকে পাকবাহিনী বাড়লা গ্রামে হানা দেয়। এখানে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ তফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প, যা ছিল পাইকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট মরহুম নুরুল ইসলাম ভুইয়া-এর বাড়িতে।
তবে সেই সময় মুক্তিযোদ্ধারা পার্শ্ববর্তী মদন থানার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে থাকায় ক্যাম্পটি ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এই সুযোগে পাকবাহিনী গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেয় ও লুটপাট চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম (৭০) জানান,
“পুরো গ্রাম জ্বলে গিয়েছিল। ৬৫টি ঘর পুড়ে যায়। মানুষ পালাতে শুরু করলে পাকবাহিনী গুলি চালায়। তখনই আমাদের চারজন ভাই শহীদ হন।”
শহীদ আব্দুল খালেকের ভাতিজা মোঃ আবুল কালাম ভুইয়া বলেন,
“আমরা স্বীকৃতি বা অর্থ চাই না। চাই শুধু—ইতিহাসটা যেন হারিয়ে না যায়। যেন দেশের মানুষ জানে বাড়লায়ও ২৩ রমজানের দিনে রক্ত ঝরেছিল।”
তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত গ্রাম হিসেবে বাড়লার জন্য টিন বরাদ্দ হলেও তা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত রিপোর্ট পাঠানো হবে এবং স্মারক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.nabonews24.com/national/2025/12/11/newsid-1086/© NABO NEWS24 | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ০১-০৭-২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ণ